বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার সরওয়ার আলমকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর রাজারবাগ এলাকার একটি সরকারি কোয়ার্টারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় হ্যাকিংয়ে ব্যবহৃত বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির শীর্ষ নেতাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলমান সাইবার হামলা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, আমিরে জামায়াতের অ্যাকাউন্টে বঙ্গভবনের অফিশিয়াল ই-মেইল ঠিকানার সঙ্গে হুবহু মিল রেখে একটি ভুয়া ঠিকানা থেকে ‘ফিশিং মেইল’ পাঠানো হয়েছিল। মূলত ওই মেইলের অ্যাটাচমেন্টে থাকা ফাইলে ক্লিক করার মাধ্যমেই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের কাছে চলে যায়। এই মেইলটি কেবল আমিরে জামায়াতকেই নয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতসহ দলটির আরও কয়েকটি কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল।
গভীর ফরেনসিক বিশ্লেষণে এই হ্যাকিংয়ে ব্যবহৃত ম্যালওয়্যারটির উৎস ভারত বলে শনাক্ত করেছে জামায়াতের আইটি টিম ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়েছেন, যে সার্ভার ব্যবহার করে এই মেইল পাঠানো হয়েছে, সেটি বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) অধিভুক্ত হলেও ম্যালওয়্যারটি ভারতের বিভিন্ন লোকেশন থেকে পরিচালিত হয়েছে। হ্যাকাররা সুপরিকল্পিতভাবে বঙ্গভবনের নাম ব্যবহার করে এই ডিজিটাল নাশকতা চালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে জামায়াত নেতাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত করতে এবং রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এই সাইবার আক্রমণ চালানো হয়েছে। রাজারবাগ সরকারি কোয়ার্টার থেকে বঙ্গভবনের একজন প্রোগ্রামার আটকের বিষয়টি এই ষড়যন্ত্রের গভীরে রাষ্ট্রীয় দপ্তরের ডিজিটাল অ্যাক্সেস অপব্যবহারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ ঘটনায় আটক সরওয়ার আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হ্যাকিং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে ডিবি।
