আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি বয়কট করার সিদ্ধান্তের অনড় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। তবে এই সংকট নিরসনে এবং পাকিস্তানকে মাঠে ফেরাতে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করেছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
আইসিসির বিশেষ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ:
টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সরকারি সিদ্ধান্তের পর বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে আইসিসি। ‘রেভস্পোর্টস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর সহকারী এবং সংস্থার ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে এই সংকট সমাধানের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুর ক্রিকেট সংস্থার প্রতিনিধি খাজাকে পিসিবির সঙ্গে ‘ব্যাক-চ্যানেল’ বা পর্দার আড়ালে আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো উপায়ে দলটিকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে ফেরানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংকটের মূলে সম্প্রচার স্বত্ব ও আর্থিক ক্ষতি:
সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নির্ধারিত এই মহারণটি বাতিল হলে আইসিসি আইনি ও বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়বে। সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আইসিসির ৪ বছরের যে বিশাল অঙ্কের চুক্তি রয়েছে, তাতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি ছিল প্রধান আকর্ষণ। এই একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করেই বিজ্ঞাপনী বাজার ও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয়ের একটি বড় অংশ আসার কথা। ম্যাচটি না হলে সম্প্রচারকারী সংস্থা চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে আইসিসির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে এবং মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি:
আইসিসি ইতোমধ্যে পিসিবিকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেছে যে, একক কোনো দেশের বিপক্ষে এমন ‘সিলেক্টিভ পার্টিসিপেশন’ বা খামখেয়ালি অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের পরিপন্থী। যদি পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে আইসিসি তাদের বার্ষিক রাজস্বের ৩৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪২০ কোটি টাকা) আটকে দিতে পারে। এমনকি টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার বা দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর শাস্তির মুখেও পড়তে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট।
সরকারের সবুজ সংকেত বনাম শর্ত:
উল্লেখ্য, গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সরকার তাদের দলকে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার অনুমতি দিলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা ভারতের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ খেলবে না। মূলত বাংলাদেশের নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব না মানায় এবং পরে বাংলাদেশকে স্কটল্যান্ড দিয়ে প্রতিস্থাপন করায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইসিসি আশা করছে, ইমরান খাজার মধ্যস্থতায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি সম্মানজনক সমাধান বেরিয়ে আসবে।







