ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের মাইঝাইল পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। প্রায় আট মাস ধরে ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মূলত খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী হয়ে গোপনে অন্য ধর্মীয় প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আটককৃতদের বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি প্রথম নজরে আসে পার্শ্ববর্তী মসজিদের হাফেজ মাওলানা শফিকুল ইসলামের। ওই দুই ইমামের চলাফেরা, আচরণ ও কথাবার্তায় তার দীর্ঘদিনের সন্দেহ ছিল। গত বুধবার তিনি বিষয়টি স্থানীয় অন্যান্য ইমাম, মসজিদ কমিটির সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মসজিদের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মসজিদ কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুই ইমামের থাকার কক্ষে তল্লাশি চালায়।
মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি আইয়ুব আলী বেপারী জানান, তল্লাশির সময় ইমামদের কক্ষ থেকে খ্রিস্টান ধর্মসংক্রান্ত বিভিন্ন লিফলেট, বিশেষ কাগজপত্র এবং যিশু খ্রিস্ট সম্পর্কিত বেশ কিছু বই উদ্ধার করা হয়। এই আলামতগুলো পাওয়ার পর তাদের ছদ্মবেশের বিষয়টি সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে যায়। পরবর্তীতে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ভাঙ্গা থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং অভিযুক্তদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃতরা হলেন— বাগেরহাট জেলার ডুবাতলা এলাকার সরোয়ার হোসেন (৪৫) এবং একই জেলার মো. হাবিব উল্লাহ (৪৫)।
ঘটনার বর্ণনায় মুফতি শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত ইমাম হাবিবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। তিনি তাকে বিপুল পরিমাণ অর্থের লোভ, উন্নত দেশে ভ্রমণের সুযোগসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণের প্রস্তাব দেন। শফিকুল ইসলাম আরও জানান, এই ষড়যন্ত্রের শেকড় কতদূর তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছিলেন এবং উপযুক্ত সময়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের হাতেনাতে ধরিয়ে দেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাইঝাইল এলাকার একটি মসজিদ থেকে অন্য ধর্মের প্রচারণামূলক বই ও লিফলেটসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, তারা কোনো বিশেষ চক্রের মাধ্যমে প্রলুব্ধ হয়ে বা নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধার লোভে পড়ে ছদ্মবেশে এই প্রচারণা চালাচ্ছিল। বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এই চক্রের পেছনে অন্য কারোর ইন্ধন আছে কি না, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
