বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পরিবারের মাঝে বিতরণকৃত সম্মানীর চেক বাউন্স হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শহীদ এবং আহতদের সম্মানে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রদত্ত এসব চেক ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর সেখানে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
শরিফ রুবেল নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ, আহত এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মোট ১২০০ জনকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও ৫০ হাজার টাকার করে চেক প্রদান করা হয়। আসলাম চৌধুরী নিজে ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগীদের হাতে এসব চেক হস্তান্তর করেছিলেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোট ১২০০ জনের মধ্যে ৮৪৪ জন শহীদ পরিবার, ১০২ জন সাংবাদিক এবং ২৫৪ জন গুরুতর আহত ব্যক্তি ও সম্মুখযোদ্ধাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্মাননা প্রাপ্তরা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চেক জমা দিতে গেলে তারা জানতে পারেন যে আসলাম চৌধুরীর সেই ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা নেই। এরপর ১৬ জানুয়ারি টাকা জমা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও ১৮ জানুয়ারি দেখা যায় ব্যাংক হিসাবে মাত্র ২০ হাজার টাকা জমা আছে। পরবর্তীতে ৩ ফেব্রুয়ারি আবারও টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ওইদিনও চেক বাউন্স হওয়ার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ নির্ধারিত দিনে সকালে ব্যাংকে গিয়ে হিসাবটিতে মাত্র ১৬ হাজার টাকা পাওয়া যায় বলে ওই ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ ধরনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এ বিষয়ে আসলাম চৌধুরীর ব্যক্তিগত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা অনুষ্ঠানের আয়োজক পক্ষের কাছ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে শহীদদের আবেগের সাথে জড়িত এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন অভিযোগ আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য যে, আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন। এর আগে বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁর বিপুল পরিমাণ ঋণখেলাপির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। যদিও নানামুখী আইনি প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচন কমিশন তাঁকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বৈধতা প্রদান করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে শহীদ পরিবারের চেক বাউন্সের খবরটি নতুন করে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।







