শরীয়তপুরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে শরীয়তপুর আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। আটককৃতরা হলেন শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমত জাহান ওরফে ইলোরা হাওলাদার এবং নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা রাব্বি মোড়ল। অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদকসহ তাদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিঞা মোহাম্মদ মেহেদি হাসান জানান, নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে শরীয়তপুর সদর, নড়িয়া ও ডামুড্যা উপজেলায় একাধিক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সদর ও নড়িয়া এলাকা থেকে একটি টমাহক শটগান, দুটি একে-২২ বোর সেমি অটোমেটিক রাইফেল এবং একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। এ সময় তিনটি ম্যাগাজিন, ১৪৯ রাউন্ড তাজা গুলি, সাতটি কার্তুজ এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্রও জব্দ করেন সেনাসদস্যরা।
অস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশাপাশি ওই আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও তল্লাশিকালে অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, মোবাইল সিমকার্ড এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। একই রাতে ডামুড্যা আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে পরিচালিত অপর একটি অভিযানে একটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, দুটি চাপাতি, দুটি চাকু ও দুটি চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব সরঞ্জাম নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে শরীয়তপুর জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে ভবিষ্যতে এ ধরনের যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সেনাবাহিনীর এমন কঠোর অবস্থানে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তারা সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।







