ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচনে জনগণের ভোটে আল্লাহ যদি জামায়াতে ইসলামিকে ক্ষমতায় আনেন, তবে দেশে সকলের জন্য ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি—দুর্নীতিতে জড়িত হলে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্ররা আন্দোলনে নেমেছিল। একদিনে আবু সাঈদসহ ছয়জন নিহত হওয়ার পর সেই আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলাকালে ছাত্রীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসে এবং হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে ৫ আগস্ট সরকার পতন হয়। কিন্তু সরকার পতনের পরপরই একটি গোষ্ঠী চাঁদাবাজির দপ্তরগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। দেশের মানুষ আর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও লুটপাট দেখতে চায় না। তাই আগামী ১২ তারিখে এসবের সঙ্গে জড়িতদের জনগণ লালকার্ড দেখাবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে মানুষ মুক্তভাবে কথা বলতে পারছে। সভা-সমাবেশে নারীরাও অংশ নিচ্ছেন এবং নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জেলা ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মদিনার আদলে রাষ্ট্র গঠন করা হবে। নারী যেকোনো সময় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। কেউ নারীদের অসম্মান করার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
জামায়াত আমির বলেন, তারা বেকার ভাতা নয়, বরং বেকারদের সুশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চান। যুবকদের এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যেন তারা দেশে-বিদেশে কাজ করে গর্বের সঙ্গে বলতে পারে—আমিই বাংলাদেশ।
তিনি জানান, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুর এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিকের সুচিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। এসব বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে না; দুর্নীতি ও ব্যাংক লুট বন্ধ হলেই অর্থের সংকট থাকবে না।
তিনি বলেন, একটি পক্ষ চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু সবাই আমরা ভাই-ভাই। দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হলে পে-স্কেলের জন্য আন্দোলন করতে হবে না। প্রত্যেককে তার ন্যায্য প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে। মৌলিক চাহিদা পূরণ না করে দুর্নীতির অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের খাদ্য ও মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেন বাধ্য না হতে হয়, সে জন্য জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নাটোরসহ দেশের ৬৪ জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলিম—সবাই এ দেশের নাগরিক, একই বাগানের ফুল। কাউকে বঞ্চিত করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ হলে বাংলাদেশ রকেটের গতিতে এগিয়ে যাবে। জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের ব্যাপারে কোনো অবহেলা করা হবে না।
জামায়াত আমির বলেন, সারা দেশে ১১ দলীয় জোটের গণজোয়ার শুরু হয়েছে। সত্যের পথে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও রাজপথে নেমে এসেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতার প্রতি আহ্বান জানান।







