রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় সেনাবাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে গুলশান আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযানের বিস্তারিত জানানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর বাড্ডার পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় মো. মেহেদী হাসান বিপুর বাড়িতে এই অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনীর গুলশান ক্যাম্পের সদস্যরা।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অভিযানে ১টি ০.২২ বোর রাইফেল, ৭টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি রিভলবার এবং ৮টি বিদেশি পিস্তলসহ মোট ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ৩৯৪ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩০ রাউন্ড কার্তুজ, ২টি রাইফেলের ম্যাগাজিন এবং ৩টি চাইনিজ কুড়ালসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়। অস্ত্র ও গোলাবারুদ অবৈধভাবে মজুত রাখার অভিযোগে মেহেদী হাসান বিপুসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গুলশান সেনা ক্যাম্পের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিষান ইসতিয়াক খান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যেই এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের উৎস এবং এর পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটককৃতদের এবং উদ্ধারকৃত মালামাল পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কাজ চলছে।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে দেশব্যাপী পরিচালিত যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে দুই যুবদল নেতাকে বিদেশি পিস্তল ও এলজিসহ আটক করা হয়। এ ছাড়াও শরীয়তপুর ও ময়মনসিংহে পৃথক অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। নির্বাচনকে ঘিরে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে যৌথ বাহিনীর এই চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
