ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৫ দিন আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চমক সৃষ্টি করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতু। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দলটিতে যোগ দেন। জিতুর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হল সংসদের প্রতিনিধিরাও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেছেন। নির্বাচনের দোরগোড়ায় তাঁর এই যোগদান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন অভিনন্দনের জোয়ার বইছে, তেমনি শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সন্তান আবদুর রশিদ জিতু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি সম্মুখসারির ছাত্রনেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এই সমন্বয়ক জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ছাত্রলীগের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য এবং আল-বেরুনী হলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুর দিকে তিনি ছাত্রলীগের হাতে মার খেয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তাঁকে আন্দোলনের নেতৃত্বের আসনে নিয়ে আসে।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক দশম জাকসু নির্বাচনে ৩ হাজার ৩৩৪ ভোট পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভিপি নির্বাচিত হন জিতু। ওই নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ভিপি পদে জিতুর জয় ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শুরুতে বিভিন্ন বামপন্থী ও প্রগতিশীল প্যানেল থেকে নির্বাচনের গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ ব্যানারে তিনি জয়ী হন। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছিলেন।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে জিতু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে ‘ফার্স্ট ম্যান’ হিসেবে আন্দোলন ও ক্যাম্পাস সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তবে সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তাঁর সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া এবং বিএনপিতে যোগ দেওয়াকে অনেকে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা হিসেবে দেখছেন। বিএনপিতে তাঁর এই অন্তর্ভুক্তি আসন্ন নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয়।
