আসন্ন ত্রয়োদশ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে মূলমন্ত্র ধরে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার তুলে ধরেন। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ এই প্রত্যয়ে একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণের ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তারেক রহমান ঘোষিত এই ইশতেহারকে ৫টি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং ৫১টি বিশেষ দফাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ৯টি প্রতিশ্রুতি হলো:
১. ফ্যামিলি কার্ড ও নগদ সহায়তা: প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
২. কৃষক সুরক্ষা: কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করে কৃষিঋণ মওকুফ, ভর্তুকি, বিমা এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
৩. স্বাস্থ্যসেবা: এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পাশাপাশি জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং মা ও শিশুর জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
৪. শিক্ষা ব্যবস্থা: প্রাথমিক শিক্ষায় মিড-ডে মিল চালুর পাশাপাশি কর্মমুখী ও প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে।
৫. কর্মসংস্থান ও তরুণ প্রজন্ম: ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক পেমেন্ট সিস্টেম ‘পেপাল’ (PayPal) চালুর মাধ্যমে তরুণদের ই-কমার্স ও স্টার্টআপে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
৬. ক্রীড়া ও অবকাঠামো: খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে জনপ্রিয় করতে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
৭. পরিবেশ ও জলবায়ু: ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং জনগণের অংশগ্রহণে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করা হবে।
৮. ধর্মীয় সম্প্রীতি: সকল ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও কল্যাণমূলক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করা হবে।
৯. ডিজিটাল ইকোনমি: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে সহজীকরণ এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন করা হবে।
ইশতেহার ঘোষণাকালে তারেক রহমান বলেন, এটি কেবল রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির দলিল। তিনি আরও যোগ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার ধারাবাহিকতায় এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, এটিই তারেক রহমানের ঘোষিত প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার। এর আগে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ২০১৮ সালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন।
