রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে পুলিশের রক্তক্ষয়ী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রায় পুলিশের লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণের ঘটনার পর নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ডাকসু ভিপি তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কেবল ব্যর্থই হয়নি, বরং বিচারের দাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর গুলি ও হামলা চালিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ফ্যাসিবাদী কায়দায় এই ন্যক্কারজনক হামলা কার মদদে এবং কার নির্দেশে হয়েছে, তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। হাদি হত্যার বিচারের দাবিকে সরকার কেন এত ভয় পাচ্ছে এবং কারা ন্যায়বিচারকে গলা টিপে হত্যা করতে চায়, সেই জবাবও দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে থেকে যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হন এবং ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা, জকসু সদস্য শান্তা আক্তার ও রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, পুলিশ নারী নেত্রীদের ওপর বুট দিয়ে বর্বরোচিত কায়দায় হামলা চালিয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের অধীনে নেওয়ার ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। শুক্রবারের মধ্যেই সরকারকে এ বিষয়ে জাতিসংঘে চিঠি পাঠানোর আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থানে হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পাও তাঁর শিশু সন্তানসহ উপস্থিত ছিলেন। হামলা ও আহত হওয়ার ঘটনার পর থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
