বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে প্রকাশ্য বিতর্কের (ওপেন ডিবেট) আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমানকে ‘প্রিয়’ ও ‘মাননীয়’ সম্বোধন করে তিনি এই আমন্ত্রণ জানান। ডা. শফিকুর রহমান প্রস্তাব করেছেন, দেশের সাধারণ মানুষের সামনে দুই নেতা নিজ নিজ দলের ইশতেহার ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন, যাতে জনগণ সরাসরি তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান আধুনিক ও মার্জিত রাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে লেখেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রকৃত বৈধতা আসে। জুলাই বিপ্লবের পর বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। রাজনীতি যে সভ্য ও অ-সংঘাতমূলক হতে পারে, তা প্রমাণের এখনই সময়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মিডিয়া এবং জনসাধারণের সামনে দাঁড়িয়ে একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থার মান নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আসুন আমরা জাতির সামনে আমাদের নিজ নিজ ইশতেহার উপস্থাপন করি এবং জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে দিই।”
এই বিতর্কের বিষয়টি গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে আলোচিত হচ্ছিল। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব এক পোস্টে মত দিয়েছিলেন যে, রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তারেক রহমানের উচিত জামায়াত আমিরের সাথে ডিবেটের প্রস্তাবটি বিবেচনা করা। এছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহীর এক জনসভায় ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ জানান, ডাকসুর পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের নিয়ে একটি ‘পলিসি ডিবেট’ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জামায়াত আমির এতে সম্মতি দিলেও তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে জামায়াত আমিরের এই প্রকাশ্য আহ্বান বিএনপি ও তারেক রহমানের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। দেশের ইতিহাসে শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতার মধ্যে এমন সরাসরি নীতি-নির্ধারণী বিতর্ক আগে কখনো হয়নি। যদি এই বিতর্ক বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। তারেক রহমান এই আহ্বানে সাড়া দেবেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।







