ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে পুলিশের হামলার পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো অজুহাতেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানো যাবে না। তবে নির্বাচিত হয়ে যারা ক্ষমতায় আসবে, তারা যদি হাদি হত্যার বিচার না করে তবে তাদের ‘জীবন জাহান্নাম বানিয়ে দেওয়া হবে’ বলে তিনি হুমকি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হইতেই হবে, পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। আমরা আমাদের এক ভাই হাদিকে হারিয়েছি। এরপর যদি আমাদের আরও কোনো ভাইকে হারাইতে হয়, তবুও নির্বাচন ১২ তারিখেই হইতে হবে।” নির্বাচনের তারিখ নিয়ে কোনো আপস করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা আসুক তা তারা চান না।
তবে পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জাবের বলেন, “নির্বাচনের পরে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে, তারা যদি হাদি হত্যার ব্যাপারে সুষ্ঠু কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে আমরা তাদের জীবনকে জাহান্নাম বানায় দেব। আমরা স্রেফ বলছি—তাদের জীবনকে জাহান্নাম বানায় দেব।” হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করাকে পরবর্তী সরকারের জন্য অন্যতম প্রধান অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
আজ বিকেলে শাহবাগে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে আবদুল্লাহ আল জাবের নিজেই গুরুতর আহত হন। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হাসপাতালের বেডে শুয়ে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন নির্বাচনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি হাদি হত্যার বিচার নিয়ে তাঁর অনড় অবস্থানও ফুটে উঠেছে। এই হুঁশিয়ারি পরবর্তী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
