বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে প্রতিহিংসার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের আটিবাড়িয়া গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র সমর্থনে মিছিল করায় এক কৃষকের জমির ধান গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে আটিবাড়িয়া এলাকায় দাঁড়িয়েপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে একটি মিছিল বের করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, মিছিলটি শেষ হওয়ার পর গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ওই মিছিলে অংশ নেওয়া তিনজন কর্মীর ফসলি জমিতে হানা দেয়। তারা কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমে লাগানো কচি ধান গাছগুলো জমি থেকে উপড়ে ফেলে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
সোনারায় ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সাইফুল ইসলাম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত হামলা। শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করার পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তাদের কর্মীদের ফসলি জমির ওপর এমন আঘাত হানা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জাহিদুল ইসলাম কান্নায় ভেঙে পড়ে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি কেবল একটি মিছিলে গিয়েছিলাম, আর সেই অপরাধে আমার রোপণ করা ধান গাছগুলো তুলে ফেলা হলো। রাজনীতির শোধ কেন আমার ফসলের ওপর নেওয়া হবে? এটি কি বিচারহীনতার দেশ?”
অন্যদিকে, এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি কর্মী পুটু মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এক অদ্ভুত দাবি করে তিনি বলেন, কেউ ধান তুলে নেয়নি, বরং পাখি খেয়ে ফেলতে পারে। তবে মাঠের বাস্তব চিত্র এবং ধান গাছ উপড়ে ফেলার ধরনে পাখির সংশ্লিষ্টতার দাবিকে স্থানীয়রা নাকচ করে দিয়েছেন।
নির্বাচনের আগে তৃণমূল পর্যায়ে এমন অসহিষ্ণু আচরণ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা এখন প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছেন।
