সুনামগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ওরফে কয়ছর এম আহমেদের বিরুদ্ধে বিএনপির মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর কাছ থেকে ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ও জাল নথিপত্র ব্যবহার করে তিনি এই মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি কর্মী আমিনুল ইসলাম মিঠুকে রাজশাহী-৬ আসনে মনোনয়ন নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন কোটি টাকার চুক্তি করেন কয়ছর। এর অগ্রিম হিসেবে কয়েক দফায় ৬৫ লাখ টাকা লেনদেন হলেও শেষ পর্যন্ত মিঠু মনোনয়ন পাননি এবং সেই টাকাও আর ফেরত পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম মিঠুর বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় হলেও তিনি বর্তমানে নিউইয়র্কে সপরিবারে বসবাস ও ব্যবসা করেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে কয়ছর আহমেদের দেওয়া দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মিঠুর স্বজন ও পরিচিতরা এই টাকা জমা দেন। লেনদেনের এই পুরো প্রক্রিয়াটি মধ্যস্থতা করেছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু। অভিযোগ রয়েছে, কয়ছর আহমেদ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তারেক রহমানের ভুয়া মন্তব্য সংবলিত কিছু তালিকা মিঠুকে পাঠান, যেখানে তিন কোটি বা তার বেশি টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন চূড়ান্ত করার ইঙ্গিত ছিল। এই নথিপত্র দেখে আশ্বস্ত হয়েই মিঠু বিপুল পরিমাণ এই অর্থ তুলে দেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, টাকা লেনদেনের জন্য কয়ছর আহমেদ তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাওন আহমেদ সোহেল এবং আসমা আক্তার নামের এক নারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন। শাওন সোহেল বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন এবং তাঁর বাবা শাহজাহান আলীর মাধ্যমে এই অর্থের একটি বড় অংশ লেনদেন হয়েছে। আসমা আক্তারের স্বামী আব্দুস সালাম কুয়েতে একটি মিশনে কর্মরত থাকাকালে সোহেলের বাবার সাথে মিলে এই অর্থ সরানোর কাজ করেছেন বলে স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে। যদিও শাওন সোহেল এই লেনদেনের কথা অস্বীকার করেছেন, তবে ব্যাংক রশিদে মিঠুর স্বজনদের টাকা জমার প্রমাণ স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
এই মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়ে কয়ছর আহমেদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এমনকি বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারাও এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বিষয়টিকে রাজনৈতিক পদের অপব্যবহার এবং প্রতারণার একটি নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, এই ধরনের অবৈধ লেনদেন ও প্রতারণার দায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল এড়াতে পারে না এবং এর সাথে জড়িতদের অবশ্যই আইনি জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমন চাঞ্চল্যকর মনোনয়ন বাণিজ্যের খবর নির্বাচনী মাঠে বিএনপির ভাবমূর্তি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রবাসীর সরলতার সুযোগ নিয়ে তারেক রহমানের নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করার এই ঘটনাটি এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জাল নথিপত্র তৈরি করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের স্বাক্ষর বা মন্তব্য নকল করার বিষয়টি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।







