আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশ্বখ্যাত বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ‘ঐক্য সরকার’ বা জোট সরকার গঠন করবে না বিএনপি। তারেক রহমানের মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে মিলে সরকার গঠন করলে দেশে কার্যকর কোনো বিরোধী দল থাকবে না, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রয়টার্সকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?” তিনি আরও যোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী যদি নির্বাচনে ভালো ফল করে বিরোধী দলে বসে, তবে তিনি তাদের কাছ থেকে একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধভাবে সরকার পরিচালনা করলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই পথে হাঁটার কোনো সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরা তারেক রহমান বিএনপির জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানান, দেশের মানুষ এবার একটি ইতিবাচক পরিবর্তন চায় এবং বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বিএনপি সারা দেশে ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং তাদের অভ্যন্তরীণ জরিপ অনুযায়ী তারা দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ের আশা করছে। তবে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট এবং তরুণদের দল এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) থেকে যে একটি শক্ত চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, সে বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, তার সরকার কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে পড়বে না। বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে ভারত, চীনসহ যেকোনো দেশের সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই হবে তার আগামীর প্রধান লক্ষ্য।
উল্লেখ্য যে, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার পতন এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত থাকায় আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের এই অবস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল।
