আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ব্যবহারের জন্য কেনা বডিওর্ন (Body-worn) ক্যামেরা সরবরাহ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট টেকনোলজিস’, যা সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের মেয়ে এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মেয়ে নাফিসা কামালের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ সুবিধা পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি থেকেই মূলত এবারের নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যামেরাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের আগস্টে অনুষ্ঠিত সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের লক্ষ্যে ২৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০ হাজার বডিওর্ন ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত হয়। শুরুতে এই কেনাকাটায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপি-এর (UNDP) মাধ্যমে সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, বাস্তবে সেই পরিকল্পনা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। শেষ পর্যন্ত ‘সোর্স মানি’ ব্যবহার করে অতি গোপনে স্মার্ট টেকনোলজিসের মাধ্যমে চীন থেকে নিম্নমানের ক্যামেরাগুলো আমদানি করেছে পুলিশ বিভাগ।
স্মার্ট টেকনোলজিস ছাড়াও এই সরবরাহ প্রক্রিয়ায় দাহুয়া, টিডিটেক, কেডাকম ও অকজন নামক আরও চারটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ক্যামেরা ক্রয়ের বিষয়টি দাহুয়াসহ সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান অস্বীকার করায় পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কেনাকাটার এই গোপনীয়তা এবং বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা মূলত লাগামহীন দুর্নীতি এবং নির্বাচনী কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি চক্রান্ত হতে পারে। তারা আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের দোসররা নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে এসব নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।
ইতিমধ্যেই নতুন কেনা এই ক্যামেরাগুলো মাঠ পর্যায়ে পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিশাল কেনাকাটার বিস্তারিত তথ্য বা ব্যয়ের হিসাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে পুলিশের টেলিকম বিভাগ। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমকে কেবল ক্যামেরাগুলো পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে এর বাইরে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে, পরীক্ষামূলক ব্যবহারের শুরুতেই বডিওর্ন ক্যামেরা হারিয়ে ফেলা এবং ভেঙে ফেলার মতো ঘটনায় পুলিশের কয়েকজন সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে, যা সরঞ্জামের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
