আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে হাতপাখা প্রতীকের এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর কড়া সমালোচনা করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে বাউফল উপজেলার পাবলিক মাঠে আয়োজিত ওই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে যারা ইনসাফের দোহাই দিয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাচ্ছেন, তারা আসলে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। তিনি অভিযোগ করেন, দাঁড়িপাল্লার দুই পাল্লার একদিকে গোপনে আমেরিকা এবং অন্যদিকে ভারত বসে আছে। বাংলাদেশের মানুষ বিদেশি কোনো শক্তির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চলা তথাকথিত ইনসাফ দেখতে চায় না, বরং তারা ইসলামের ইনসাফ দেখতে চায়।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে রেজাউল করীম বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, কোনো দলই এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করে বলেনি যে তারা ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তারা সবাই প্রচলিত ধারার শাসন ব্যবস্থায় বিশ্বাসী। তিনি দাবি করেন, গত ৫৪ বছরে প্রচলিত এই ঘুণে ধরা আইনের কারণেই বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে বিদেশে ‘বেগমপাড়া’ তৈরি হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যদি ক্ষমতায় আসে, তবে তারা পূর্ণাঙ্গ ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং পরনির্ভরশীল রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।
চরমোনাই পীর আরও বলেন, প্রচলিত দলগুলো ক্ষমতায় এলে একে অপরের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার রাজনীতিতে মেতে ওঠে। যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তখন বিএনপি পালায়, আবার বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ ঘরছাড়া হয়। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় এলে কোনো নিরপরাধ মানুষকে নিজ দেশ ছেড়ে পালাতে হবে না—এমন নিশ্চয়তা প্রদান করেন তিনি। তিনি মনে করেন, উন্নয়নের মিথ্যা ফুলঝুরি নয়, বরং মানুষের জানমালের প্রকৃত নিরাপত্তা ও স্থায়ী শান্তি দিতে পারে একমাত্র ইসলাম।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি নতুন ভোটারসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে হাতপাখা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, হাতপাখা প্রতীকে একটি ভোট দেওয়ার অর্থ হলো ইসলামের পক্ষে একটি শক্তিকে শক্তিশালী করা। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন হাতপাখা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারী এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সেখানে বক্তব্য রাখেন। আসন্ন নির্বাচনে ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে হাতপাখার পক্ষে ব্যালট বিপ্লব ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
