শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ভারতে আশ্রয় প্রদান, ক্রীড়া ও নির্বাচন ব্যবস্থায় দিল্লির নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ‘ভারত আউট’ (India Out) আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘র্যালি ফর বাংলাদেশ’ নামক বিশাল সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে শাহবাগের শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে জড়িত গণহত্যাকারী এবং শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের ভারত নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের মতো আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেও প্রভাবিত করার জন্য ভারত চক্রান্ত করছে বলে তারা দাবি করেন। বক্তাদের মতে, গত ৫৪ বছর ধরে সরাসরি যুদ্ধের বদলে ভারত নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দুর্বল করার চেষ্টা করে আসছে। পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ, অভিন্ন নদীতে বাঁধ দিয়ে বন্যা সৃষ্টি এবং পানিবণ্টন চুক্তি না করার উদাহরণ টেনে তারা বলেন, ভারত কখনোই বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে আচরণ করেনি।
ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের আধিপত্যের কঠোর সমালোচনা করেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের প্রভাবে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং আইসিসিকে তিনি ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল’ বলে ব্যঙ্গ করেন। এছাড়া শিলংয়ে ফুটবল দলের অনুশীলনের সময় বাতি বন্ধ করে দেওয়া এবং নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে দক্ষ বিএনসিসি ক্যাডেটদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনেও ভারতীয় গভীর চক্রান্ত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, নিরাপত্তার অজুহাত তুলে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের স্পষ্ট উদাহরণ।
সমাবেশে সাম্প্রতিক পুলিশি হামলার বর্ণনা দিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য রিয়াদুল ইসলাম যুবা বলেন, গতকাল জুলাইয়ের কায়দায় সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে ইনকিলাব মঞ্চের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই হামলায় জড়িত ও নির্দেশদাতাদের শুধু বরখাস্ত নয়, বরং কঠোর আইনি শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকারের মদদে এই দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। তিনি বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য জাতিসংঘের অধীনে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানান।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে আর কোনো ভিনদেশি হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। সমাবেশ থেকে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনের আহ্বান জানানো হয়। ‘ইন্ডিয়া বয়কট’ ও ‘ওসমান হাদির বিচার চাই’ স্লোগানে এদিন উত্তাল হয়ে ওঠে শহীদ মিনার এলাকা। ছাত্র-জনতা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে চূড়ান্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
