যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য সমাপ্ত পরোক্ষ আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুই দেশ পুনরায় পাল্টাপাল্টি হুমকিতে লিপ্ত হয়েছে। তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও দুর্বল করতে ওয়াশিংটন দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) কাতারের দোহায় ‘আল জাজিরা ফোরাম’-এর এক পার্শ্ববৈঠকে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায়, তবে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
আরাকচি স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডে আক্রমণ করবে না, বরং সরাসরি মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেই আঘাত হানবে। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আক্রমণের দাঁতভাঙা জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে তিনি জানান।
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে ইরানের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে শীর্ষ এই কূটনীতিক বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং যেকোনো আলোচনার পরিধির বাইরে। এছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা ইরানের অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং এটি কোনোভাবেই বন্ধ হবে না।
ওমানের মাসকটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া পরোক্ষ আলোচনাকে তিনি একটি ‘ভালো শুরু’ হিসেবে বর্ণনা করলেও সতর্ক করে দেন যে, দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরির জন্য এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। তিনি স্পষ্ট জানান, ‘জিরো-পারসেন্ট ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের’ কোনো প্রস্তাব তেহরান গ্রহণ করবে না।
ইরান বারবার জোর দিয়ে বলছে যে, দৃশ্যমান অর্থনৈতিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া কোনো চুক্তির বাস্তব মূল্য নেই। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার আইনি অধিকার স্বীকৃতি পেলেই কেবল কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা হবে, এর বাইরে অন্য কোনো পূর্বশর্ত তারা মেনে নেবে না।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় পুরো অঞ্চলটি এখন চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
