জাতীয় মসজিদের মিম্বার থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং গণভোটকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত প্রচারণার অভিযোগ তুলে ধর্মীয় ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটের প্রাক্কালে জাতীয় মসজিদের খতিবের ভূমিকা নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত।
অভিযোগ উঠেছে, যেখানে রাষ্ট্র নিজেই জুলাই সনদভিত্তিক সংস্কার ও শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে, সেখানে সরকারি বেতনভুক্ত খতিব মিম্বারে দাঁড়িয়ে “না” ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, জাতীয় মসজিদের খতিব কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের প্রতিনিধি নন; বরং তিনি জাতীয় ধর্মীয় চেতনার প্রতীক। তাই রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের সরাসরি বিরোধিতা করা তার পদের মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সমালোচকরা বলছেন, খতিব ইনিয়ে-বিনিয়ে ভোটকে ‘না-জায়েয’ প্রমাণের চেষ্টা করলেও সমাজে চলমান চাঁদাবাজি, লুটপাট, দুর্নীতি ও নারী-শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অন্যায়গুলোর বিরুদ্ধে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। ইসলামের মূল শিক্ষা যেখানে সব ধরনের জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার কথা বলে, সেখানে খতিবের এমন একপেশে অবস্থান সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে যখন দেশ পুনর্গঠনের কাজ চলছে, তখন বায়তুল মোকাররমের মতো পবিত্র মিম্বার থেকে বিভাজনমূলক বক্তব্য দেওয়াকে শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন অনেকে। আলেমদের ঐক্যের পরিবর্তে নেতিবাচক ক্যাম্পেইন চালানোর মাধ্যমে তিনি ইলমের অপব্যবহার করছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মাননীয় ধর্ম উপদেষ্টা আ.ফ.ম খালিদ হোসেনের মতো প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির প্রতি জনগণের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় মসজিদের মতো স্পর্শকাতর স্থানে একজন বিতর্কিত ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা সংকটে থাকা ব্যক্তিকে খতিব হিসেবে বহাল রাখার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, জাতীয় মসজিদের মিম্বারে বসার জন্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ ও দূরদৃষ্টি থাকা আবশ্যক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যদি এই ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়াবিরোধী অবস্থান চলতে থাকে, তবে তা ইসলামী উম্মাহর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হবে। বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন নয়, বরং দ্বীন, দেশ ও মানুষের হেফাজতের জন্য প্রকৃত আলেমদের সঠিক ও ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।
