বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন যে, জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি ও বিডিআরের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান বলেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার বিডিআরের নাম ও পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে ফেলেছিল। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিডিআরের সেই ঐতিহাসিক নাম ও ঐতিহ্য পুনর্বহাল করা হবে। এছাড়া সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ বা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ওয়ান র্যাংক, ওয়ান পে’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এটি ইতোমধ্যে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি কার্যকর করা হবে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠনসহ সশস্ত্র বাহিনীর সংস্কারে সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হবে।
নিজের শৈশবের স্মৃতি চারণ করে তারেক রহমান বলেন, সেনানিবাসেই তার বেড়ে ওঠা এবং সেনাবাহিনী তার কাছে একটি বৃহত্তর পরিবারের মতো। তিনি উল্লেখ করেন, তার মা বেগম খালেদা জিয়া সবসময় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর স্বপ্ন দেখতেন। তিনি বিশ্বাস করেন, স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শহীদ জিয়াকে নিয়ে দেশের জনগণ যেমন গর্বিত, সেনাবাহিনীও তেমনি গর্বিত।
সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করার অঙ্গীকার করে তারেক রহমান বলেন, বিগত দেড় দশকে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও গৌরব ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সেনাবাহিনী কখনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হবে না। তিনি সেনা কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, পেশাদারিত্ব যেন রাজনীতির চাদরে ঢাকা না পড়ে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিডিআরের সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সন্তান রাকিন আহমেদসহ পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাবেক সেনা কর্মকর্তারা গত ১৭ বছরের নিপীড়ন ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমানের হাত ধরেই একটি নিরাপদ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ এবং পেশাদার সেনাবাহিনী গড়ে উঠবে।
