আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় জোট জয়লাভ করলে ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী ও এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে সরকারের মন্ত্রী করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর বাড্ডায় আয়োজিত ১১-দলীয় ঐক্যের এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
তরুণ প্রজন্মকে আগামীর নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “নাহিদ ইসলামরা হবে আগামীর বাংলাদেশ নামের জাহাজের ক্যাপ্টেন। ইনসাফের বাংলাদেশের পক্ষে জনরায় অর্জিত হলে সেই সরকারে অবশ্যই নাহিদ ইসলামকে আপনারা একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখবেন।” তিনি আরও বলেন, অভিজ্ঞরা পেছনের আসনে থেকে পরামর্শ দেবেন, আর যুবকরাই দেশকে সঠিক গন্তব্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
দেশের উন্নয়ন থমকে যাওয়ার পেছনে অতীতের নেতৃত্বের সততার অভাব এবং দুর্নীতিকে দায়ী করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিগত দিনের শাসকদের মধ্যে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ছিল না। তবে এ দেশের মানুষ অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। তরুণ নেতৃত্বের হাত ধরে এবার সেই হতাশা কেটে যাবে এবং বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নতির পথে হাঁটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৮ কোটি মানুষের হক রক্ষার অঙ্গীকার করে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি মাটির পাহারাদারি করবে ১১-দলীয় জোট। তিনি ঘোষণা করেন, “আমরা এ দেশের মালিক হতে চাই না, বরং জনগণের সেবক হতে চাই। মানুষের জীবন, সম্পদ এবং ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে আমাদের প্রধান কাজ।”
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আরও বলেন, তারা কেবল ততটুকুই আশ্বাস দেবেন যা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। জুলাই অভ্যুত্থানের মতো জানপ্রাণ দিয়ে আগামীর দায়িত্ব পালন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনোভাবেই জনগণের আমানতের সঙ্গে বেইমানি করা হবে না।
সবশেষে একটি ইনসাফভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি ও আধিপত্যবাদমুক্ত সমাজ গড়তে দেশবাসীকে হাতে হাত রেখে এগিয়ে আসতে হবে। জনসভায় জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও নাহিদ ইসলামের সমর্থনে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।







