আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা ‘সোচ্চার- টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’-এর এক জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, অতীতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অর্থাৎ ৩১ শতাংশের বেশি ভোটার এবার জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোটকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের এই ফলাফল তুলে ধরেন সোচ্চার-এর প্রেসিডেন্ট ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমেদ। জরিপে দেখা গেছে, অতীতে বিএনপিকে ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৫৭.৪ শতাংশ এখনও বিএনপির সঙ্গেই আছেন, তবে ৪.৯ শতাংশ ভোটার এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলো নিয়েও জরিপে বিশেষ তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৪৬.৪ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন। সেখানে জামায়াতের প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামানের পক্ষে ২৭.৪ শতাংশ জনমর্থন রয়েছে। তবে আজ নির্বাচন হলে কাকে ভোট দেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান ৩৫ শতাংশ এবং খালিদুজ্জামান ৩২ শতাংশ ভোট পেতে পারেন বলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
ঢাকা-১৫ আসনে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জরিপ অনুযায়ী, তিনি ৪৯.২ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হতে পারেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী পেতে পারেন ৩২.৫ শতাংশ ভোট। এখানকার ৩৯.৫ শতাংশ ভোটার সরাসরি ডা. শফিকুর রহমানকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বিএনপির এম এ কাইয়ুমের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র ফুটে উঠেছে। জরিপে নাহিদ ইসলাম ৪১.৪ শতাংশ এবং এম এ কাইয়ুম ৩৭ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন। বিশেষ করে নারী ও পুরুষ উভয় শ্রেণির ভোটারদের মধ্যেই নাহিদ ইসলামের জনপ্রিয়তা কাছাকাছি পর্যায়ে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ঢাকা-১৩ আসনে একটি ব্যতিক্রমী ফলাফল দেখা গেছে। সেখানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের চেয়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। জরিপটি মূলত রাজধানী ঢাকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দ ও ভোট দেওয়ার প্রবণতা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে।







