আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে এটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও সাধারণ ভোটাররা।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই সিদ্ধান্তকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এর মাধ্যমে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার পায়তারা চলছে। মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য সাথে ফোন থাকা জরুরি উল্লেখ করে তিনি এই নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত প্রশ্ন তোলেন, ভোটাররা ফোন কোথায় রেখে কেন্দ্রে যাবেন? তিনি বলেন, বুথের ভেতর ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ হলে সেটি যৌক্তিক হতো, কিন্তু ৪০০ গজের মধ্যে ফোন নিষিদ্ধ করা অবাস্তব। এর ফলে কেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার ভিডিও বা ছবি তুলে রাখা সম্ভব হবে না।
১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দাখিল করবেন। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ জোটের শীর্ষ নেতারা আজ সোমবার বিকেলে ইসিতে গিয়ে এই দাবি তুলে ধরবেন। তাদের মতে, ভোটারের মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও জালিয়াতি ও ভোট চুরি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা বন্ধ করা অহেতুক।
উল্লেখ্য, গত রোববার নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রিজাইডিং অফিসার ও নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা কর্মী ছাড়া সাধারণ ভোটার বা সংশ্লিষ্ট কেউ কেন্দ্র ও তার পার্শ্ববর্তী ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন রাখতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্ত জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।







