ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে ‘অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু প্রতিনিধিরা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে আলোচনার পর ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম জানান, কমিশনের পক্ষ থেকে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সাদিক কায়েম সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে যে উৎসবমুখর আমেজ তৈরি হয়েছে, তা নষ্ট করতে একটি পক্ষ অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। ডাকসুর দাবির মুখে কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে, দ্রুতই এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনের কাছে চারটি দাবি তুলে ধরে ডাকসু প্রতিনিধি দল। দাবিগুলো হলো—মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল, ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা, সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করা এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রেখে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।
ডাকসু ভিপি আরও জানান, ইসি তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি এবং বিএনসিসি মোতায়েনের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কমিশন। বাকি দাবিগুলোর ব্যাপারেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাইয়ের প্রজন্ম কাউকে ‘পেছনের দরজা’ দিয়ে ক্ষমতায় আসতে দেবে না। যারা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন, তাদের কার্যক্রম নথিবদ্ধ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো একক দল নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
