আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার পর থেকেই ব্যাপক সাইবার বুলিং ও অনলাইন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু।
তিনি অভিযোগ করেছেন, জামায়াতকে সমর্থন দিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচারে নামার পর পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসা রটনা, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ করেন ডা. মাহমুদা মিতু।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে অনলাইন আক্রমণের মাত্রা আগের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেড়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষা, চরিত্রহননমূলক মন্তব্য ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা একজন রাজনৈতিক কর্মী হওয়ার পাশাপাশি একজন নারী হিসেবেও তাকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ডা. মিতু দাবি করেন, এই সাইবার হেনস্তার পেছনে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির কর্মী ও সমর্থকদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার দলের নেতাকর্মীদের ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন এবং এসব অনলাইন আক্রমণের নৈতিক দায় তিনি এড়াতে পারেন না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন নারী নেতা হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলে মাঠপর্যায়ে তার দৃশ্যমান রাজনৈতিক তৎপরতা এবং জামায়াত-সমর্থিত জোটের পক্ষে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় যুক্ত হওয়াই তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণের মূল কারণ। নির্বাচনি পরিবেশে নারী রাজনীতিকদের ভয় দেখানো ও মনোবল ভাঙতেই পরিকল্পিতভাবে সাইবার বুলিংকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় সাংগঠনিক টিমে ডেপুটি অর্গানাইজার হিসেবে দায়িত্ব পান ডা. মাহমুদা আলম মিতু। দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি নোয়াখালী, বরিশাল, কুষ্টিয়া, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকি করে আসছেন।
এছাড়া ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি স্থানীয় উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হন। ৩০ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের পর ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তা বৈধ ঘোষণা করা হয়।
তবে দলীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং জামায়াত-সমর্থিত জোটের সমর্থনের প্রেক্ষাপটে ২০ জানুয়ারি তিনি নিজেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এরপরও তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতসহ জোটের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ‘জামায়াতকে সমর্থন দিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার পর থেকেই প্রতিপক্ষের নোংরামি ও সাইবার বুলিং ভয়াবহভাবে বেড়েছে। আমার বিরুদ্ধে করা প্রতিটি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও হেনস্তার দায় যারা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না, তাদেরই নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভয় পাই না। একজন নারী এবং একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এসব প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবেই, কিন্তু মতের কারণে নারীদের এভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
ডা. মিতু জানান, সাইবার সহিংসতার বিরুদ্ধে তিনি আইনগত ও সামাজিক লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারী রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।







