বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। তবে স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক যাত্রার সেই শুরুটিই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন কারচুপি ও অনিয়মের কারণে সেই নির্বাচন আজও একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
১৯৭২ সালের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পরপরই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সে সময় আওয়ামী লীগের জনসমর্থন নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না, তবুও পছন্দের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল। বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া এবং হাইজ্যাক করার মতো ঘটনাও সে সময় ঘটেছিল।
নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটেছিল কুমিল্লা-৯ (দাউদকান্দি) আসনে। সেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খন্দকার মোশতাক আহমেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে ব্যালট বাক্স ঢাকায় নিয়ে এসে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
১৯৭৩ সালের সেই নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টিতেই জয় পায় আওয়ামী লীগ। জাসদ ও বাংলাদেশ জাতীয় লীগ মাত্র একটি করে আসন পায় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাঁচটি আসনে জয়ী হন। বিরোধী দলবিহীন এই সংসদ গঠনকে তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ‘নির্বাচন প্রহসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।
এছাড়া প্রথম নির্বাচনেই শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বেশ কিছু আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ন্যাপ নেতা মোজাফফর আহমদ অভিযোগ করেছিলেন যে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও কারচুপির মাধ্যমে অন্তত ৭০টি আসনের ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছিল, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
