ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের বিএনপির রাজনীতিতে জাইমা রহমানের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং দলটির ‘পরিবারতন্ত্র’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি কড়া সমালোচনামূলক পোস্ট দিয়েছেন। তার সেই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে একটি সংবাদ প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো:
বিএনপির রাজনীতিতে জাইমা রহমানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের। তিনি জাইমা রহমানের রাজনৈতিক যোগ্যতা এবং বিগত বছরগুলোতে দেশের সংকটে তার ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। সোমবার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিএনপির ‘পরিবারতন্ত্র’ ও ‘নেপোটিজম’ নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জুবায়ের তার পোস্টে উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় জাইমা রহমান একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যারিস্টার হওয়া সত্ত্বেও আন্দোলনে তার দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা ছিল না। তিনি প্রশ্ন করেন, লন্ডনে প্রবাসীরা দিনের পর দিন আন্দোলন করলেও জাইমা রহমান সেখানে অংশ নিয়েছেন কি না বা অনলাইনে কোনো সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন কি না। এছাড়া গত ১২ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধেও একজন আইনজীবী হিসেবে তার অবদানের কোনো প্রমাণ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, জিয়া পরিবারের সন্তান হিসেবে জাইমা রহমানের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবদান রাখার সুযোগ ছিল, কিন্তু তিনি তা করেননি। জুবায়েরের মতে, হাসিনা সরকারের পতন না হলে তিনি দেশে ফিরতেন কি না তারও কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। অথচ এখন দলে তাকে যে পর্যায়ের গুরুত্ব ও ‘এক্সেস’ দেওয়া হচ্ছে, তা সারাজীবন লড়াই করা ত্যাগী নেতাকর্মীদের জন্য অবমাননাকর।
নেতাকর্মীদের ত্যাগের তুলনা টেনে জুবায়ের লেখেন, “সারাজীবন হাসিনার বিরুদ্ধে ফাইট দিয়ে আসা রাকিব, নাসির, আমান, আবিদ, হামিমরাও যেই গুরুত্ব পান না, সেটা জাইমা রহমান কীভাবে পান?” তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন যে, তারেক রহমানের মেয়ে বা শহীদ জিয়ার নাতনি হওয়া ছাড়া জাইমা রহমানের আর কোনো রাজনৈতিক যোগ্যতা নেই।
সবশেষে তিনি দলটির সমর্থকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, জাইমা রহমানের এই রাজনৈতিক উত্থানকে কেন ‘নেপোটিজম’ বা ‘পরিবারতন্ত্র’ বলা যাবে না? ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং যোগ্যদের অবমূল্যায়ন করে অযোগ্যদের গুরুত্ব দেওয়ার এই সিস্টেমের বিরুদ্ধে তার লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
