জনতা ব্যাংক থেকে ২২ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ সুবিধা পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন। তবে এই সুবিধা পাওয়ার ঠিক আগে তার প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সন্দেহজনকভাবে বড় অংকের টাকা জমা হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মির্জা ফয়সালের মালিকানাধীন ‘নিশ্চিন্তপুর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’-এর ঋণ নবায়ন ও সুদ মওকুফের শর্ত হিসেবে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। এই টাকার উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, গত ৯ নভেম্বর একদিনেই তিনটি ভিন্ন জেলার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে তার অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা জমা হয়।

টাকা পাঠানো প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের সামিহা অটো রাইস মিল (৩০ লাখ), নারায়ণগঞ্জের ডিআর পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ (৭২ লাখ) এবং রংপুরের এরিস্ট্রোকেট অ্যাগ্রো লিমিটেড (৫০ লাখ)। এছাড়া মেহেদি ও সবুজ নামে দুই ব্যক্তি আরও ৩৮ লাখ টাকা জমা করেন। ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিশ্চিন্তপুর অ্যাগ্রোর কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই।
সামিহা অটো রাইস মিলের মালিক আ. সামাদ প্রথমে লেনদেনের কথা অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করেন। তিনি এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও সরকার পতনের পর বিএনপির সঙ্গে সখ্য গড়েন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, রংপুরের এরিস্ট্রোকেট অ্যাগ্রো প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ব্যাংকের শীর্ষ ঋণখেলাপিদের তালিকায় রয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর ব্যাংকটির সঙ্গে কোনো লেনদেন না থাকলেও গত ৯ নভেম্বর ঋণ মওকুফের আবেদন করার দিন থেকেই দফায় দফায় টাকা জমা পড়তে থাকে। এ বিষয়ে জানতে মির্জা ফয়সাল আমিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত সহকারী জানান, তিনি নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় কথা বলতে পারছেন না।







