নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে দেশব্যাপী এক ঝটিকা ও বর্ণাঢ্য প্রচারণার মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত ১৮ দিনে দেশের আটটি বিভাগের ৪৩টি জেলা সফর করে তিনি ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের পক্ষে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি করেছেন।
১৮ দিনে ৪৩ জেলা ও ৭ হাজার কিমি সফর নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ডা. শফিকুর রহমান গত ১৮ দিনে প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। সময় বাঁচাতে তিনি হেলিকপ্টার এবং সড়ক পথ উভয়ই ব্যবহার করেছেন। এই স্বল্প সময়ে তিনি ৪৩টি জেলায় অর্ধশতাধিক বিশাল জনসভা ও অসংখ্য পথসভায় বক্তব্য রাখেন। ৬৭ বছর বয়সি এই নেতার হার্ট অপারেশনের মাত্র ৬ মাস পর এমন অক্লান্ত পরিশ্রম সাধারণ ভোটারদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।

জনসভায় গণজোয়ার ও নারী ভোটারদের উপস্থিতি উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ এবং নোয়াখালী-চট্টগ্রামের জনসভাগুলোতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। বিশেষ করে জামায়াতের জনসভাগুলোতে এবার নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। প্রচারণার শেষ দিনে নিজ নির্বাচনী এলাকায় আয়োজিত গণমিছিলে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণ জামায়াতের পক্ষে একটি বড় ‘গণজোয়ার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনী ইশতেহার ও পরিবর্তনের অঙ্গীকার নির্বাচনী বক্তৃতায় জামায়াত আমির দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কড়া প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং কর্মস্থলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে তিনি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং সংসদ নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রচারণায় বাধা ও নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ প্রচারণা চলাকালীন দেশের অন্তত ৪৬টি উপজেলায় জামায়াতের নারী কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দলটির দাবি, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের নারী কর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, হিজাব খুলে নেওয়া এবং সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে হেনস্তা করেছে। জামায়াতের নারী শাখার সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আইডি হ্যাক ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান প্রচারণার মাঝপথে ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে একটি ‘নারী বিদ্বেষী’ পোস্ট করা হয়, যা নিয়ে ছাত্রদল আন্দোলনে নামে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে ডিজিটাল প্রমাণসহ বিষয়টি স্পষ্ট করার পর এবং বঙ্গভবনের এক আইটি কর্মকর্তাকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করার পর ছাত্রদলের আন্দোলন নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন উঠেছে। দলটির কর্মীরা মনে করছেন, এই অপপ্রচার শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হয়ে বিএনপির জন্যই নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
জোটের মূল্যায়ন ও আগামীর স্বপ্ন ১১ দলীয় জোটের শরিক জাগপা সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান জামায়াত আমিরের এই সফরকে অত্যন্ত সফল বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ডা. শফিকুর রহমান একজন যুবকের মতো উদ্দীপনা নিয়ে সারাদেশ ঘুরেছেন যা জোটের অন্য নেতাকর্মীদেরও অনুপ্রাণিত করেছে। তৃণমূলের মানুষের মাঝে তাকে ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।







