Gemini said
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর ভয়াবহ হামলা, হেনস্তা ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। গত ২২ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের অন্তত ৪৬টি উপজেলায় জামায়াতের নারী কর্মীরা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জামায়াতের প্রচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি মারা থেকে শুরু করে শ্লীলতাহানি, হিজাব খুলে নেওয়া এবং কান ছিঁড়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সশরীরে হামলার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও নারী কর্মীদের উদ্দেশ্য করে নিয়মিত অশ্লীল গালিগালাজ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পটুয়াখালীর বাউফলে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক নারী কর্মীর পেটে লাথি মেরে গুরুতর জখম করার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া যশোরের চৌগাছা, নোয়াখালীর চাটখিল, সোনাইমুড়ী এবং বরগুনার পাথরঘাটায় একাধিক স্থানে নারী কর্মীদের পথরোধ করে হেনস্তা ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চৌগাছার ঘটনায় নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান দোষীদের শাস্তির নির্দেশও দিয়েছেন।
লালমনিরহাট, ভোলা, ময়মনসিংহ ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জামায়াতের নারী কর্মীদের উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেক স্থানে বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মাগুরায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে নারীদের শাড়ি খুলে নেওয়ার হুমকির মতো ন্যাক্কারজনক অভিযোগও সামনে এসেছে।
রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার বিভিন্ন আসনেও নারী কর্মীরা প্রচারণাকালে হামলার শিকার হয়েছেন। জামায়াতের অভিযোগ, সারাদেশে তাদের নারী কর্মীদের ওপর অব্যাহতভাবে এমন নিপীড়ন চললেও বিএনপি নেতৃত্ব এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ রয়েছে। দলটির মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।







