ফেনী-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারপত্রে নামের আগে ‘অধ্যাপক’ ও শেষে ‘ভিপি’ পদবি ব্যবহার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আজিমুল ইসলাম নামের এক ভোটার।
অভিযোগকারীর দাবি, জয়নাল আবেদীন একটি কলেজে প্রভাষক হিসেবে কিছুদিন শিক্ষকতা করলেও তিনি কখনো ‘অধ্যাপক’ পদে পদোন্নতি পাননি। এছাড়া হলফনামায় তিনি আয়ের উৎস হিসেবে গৃহ সম্পত্তি ও কৃষি আয়ের কথা উল্লেখ করলেও শিক্ষকতার কথা জানাননি। নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই পদবি ব্যবহার নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জয়নাল আবেদীন ছাত্রজীবনে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং কর্মজীবনের শুরুতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি কলেজে শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছিলেন। তবে তার সমর্থকরা একে জনপ্রিয় পদবি হিসেবে দেখলেও বিরোধীরা একে তথ্য গোপন ও ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবে দেখছেন।
এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে পড়েন জয়নাল আবেদীন। তিনি দাবি করেন, তার অধ্যাপনার প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে এবং তিনি বৈধভাবেই এই পদবি ব্যবহার করছেন। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে পাল্টা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, প্রমাণ দেখাতে না পারলে তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি মামলা করবেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
