ভারত-পাকিস্তান টেস্ট ক্রিকেট মাঠে ফেরার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক পাকিস্তানি তারকা মোহাম্মদ হাফিজ। তার মতে, পুরো বিষয়টি আইসিসি ও তাদের প্রশাসনের একটি বড় ব্যর্থতা এবং পরিস্থিতির সমাধানে আইসিসিকে পিসিবি-র সঙ্গে দরকষাকষি করতে হয়েছে।
সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন নিয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলে আইসিসি প্রায় ১৭৪ মিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে ছিল। শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে আইসিসি ঘোষণা করেছে যে, ২০৩১ সালের বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশে একটি বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। পাকিস্তান সরকারের নির্দেশে এই বর্জন ও সমঝোতার প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক প্রভাবে দীর্ঘায়িত হয়েছে বলে মনে করছেন হাফিজ।
একটি অনুষ্ঠানে হাফিজ প্রশ্ন তোলেন, খেলাধুলার সাথে রাজনীতির এই মিশ্রণ আসলে কার সমস্যার সমাধান করল? তিনি বলেন, যদি কেউ দোষী হয়ে থাকে তবে কেন তার পরিচয় প্রকাশ করা হলো না। ভুল স্বীকার না করে শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা টুর্নামেন্ট ভাগ করে দেওয়ার মাধ্যমে ক্রিকেটীয় স্পিরিট রক্ষা করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
ভারত-পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্ব উল্লেখ করে হাফিজ বলেন, এই দুই দেশের লড়াই পুরো বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। তিনি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ম্যাচ নয়, বরং নিয়মিতভাবে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তার মতে, যা ঘটেছে তা ক্রিকেটের ভাবমূর্তির জন্য মোটেও সুখকর ছিল না।
অন্যদিকে, আইসিসি প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সাম্প্রতিক বাধা সত্ত্বেও সেখানে ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আইসিসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে ২০৩১ সালের আগে একটি বড় ইভেন্ট আয়োজনের বিষয়টি সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ।
