সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া নির্বাচনের আগের রাতে তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রয়োগের বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, এই ক্ষমতা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহার করতে হবে।
তরুণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, প্রতিটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ কেবল অপরাধ দমন নয়, বরং জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি রক্ষার পক্ষাবলম্বন। এই দায়িত্ব সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে পালন করলে সশস্ত্র বাহিনী আবারও জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হবে।
সাবেক সেনাপ্রধান উল্লেখ করেন, অতীতের তিনটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মাঠে থাকলেও তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে দেওয়া হয়নি। তবে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী এই নির্বাচনে সেই অবস্থানের বিপরীতে সবাইকে পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় হতে হবে। বিশেষ করে পুলিশ বা জনপ্রশাসন কোথাও দুর্বলতা দেখালে সেনা কর্মকর্তাদের সাহসের সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি কর্মকর্তাদের চারটি বিশেষ নির্দেশনা দেন। যার মধ্যে রয়েছে—রাজনৈতিক পক্ষপাত ও স্থানীয় চাপ উপেক্ষা করা, ভোটকেন্দ্র দখল বা জাল ভোটের মতো অপরাধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অপরাধ ঘটার আগেই দৃশ্যমান উপস্থিতির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাবেক সেনাপ্রধানের এই আহ্বান নির্বাচনের মাঠে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
