শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও বনজ কুমার মজুমদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত শেখ জাহিদুল ইসলাম এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। ২৫তম বিসিএস ক্যাডারের এই কর্মকর্তা বর্তমানে নীলফামারীর পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বরত থাকলেও তার অতীত কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসবিতে কর্মরত থাকাকালীন তিনি সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মনিরুল ইসলামের সাথে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভোল পাল্টে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের নেতার মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও এবং পরবর্তীতে গত ২৬ নভেম্বর নীলফামারীর এসপি হিসেবে পদায়ন পান।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এসপি জাহিদের বিরুদ্ধে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি নীলফামারীতে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা শেষে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে তার সাক্ষাৎ ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সদর দফতরের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রার্থীর সাথে এমন ঘনিষ্ঠতা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
সর্বশেষ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে টাকাসহ আটকের ঘটনায় এসপি জাহিদ পুনরায় আলোচনায় আসেন। যদিও শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ রুটে টাকা বহনে কোনো আইনি বাধা নেই এবং ওই জামায়াত নেতার কাছে কাস্টমসের অনাপত্তি পত্র ছিল, তবুও তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ায় বিষয়টিকে অনেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করছেন।
নির্বাচনের আগমুহূর্তে একজন জেলা পুলিশ সুপারের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রতি ঝোঁক নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের এই কর্মকর্তার অতীত সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্টতা এবং বর্তমান আচরণ নিয়ে সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।







