চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে দীর্ঘ ৫৬ বছর পর ভোটকেন্দ্রে এসে ইতিহাস গড়েছেন স্থানীয় নারীরা। ১৯৬৯ সাল থেকে চলে আসা স্থানীয় একটি ‘নিষেধাজ্ঞা’ ভেঙে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে নারীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
প্রথমবার ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা সরেজমিনে দেখা যায়, ৭০ বছর বয়সী আয়েশা বেগম প্রথমবারের মতো ভোট দিতে এসেছেন। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়লেও চোখে-মুখে ছিল আনন্দের ছাপ। তিনি জানান, এর আগে স্থানীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি কখনও ভোট দিতে আসেননি। একইভাবে ৪৫ বছর আগে বিয়ে হয়ে আসা নূরজাহান বেগমও এবারই প্রথম ভোট দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
কেন এই দীর্ঘ বিরতি? স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে স্থানীয়ভাবে একটি নির্দেশনা জারি করে নারীদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিষেধ করা হয়েছিল। সেই থেকে দশকের পর দশক নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন চেষ্টা করলেও নারীদের ভোটকেন্দ্রে আনা সম্ভব হয়নি। নারীদের মাঝে একটি ভ্রান্ত ধারণা ছিল যে, ভোট দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে হয়তো সঠিক নয়।
প্রশাসনের তৎপরতায় ভাঙল কুসংস্কার এই অচলাবস্থা ভাঙতে সম্প্রতি চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম সরকার স্থানীয় আলেম, ইমাম ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে নারীদের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন করা হয়। প্রশাসনের এই ধারাবাহিক প্রচারণায় অবশেষে দীর্ঘ ৫৬ বছরের পুরনো প্রথা বিলুপ্ত হলো।
নারী ভোটারদের সরব উপস্থিতি রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে মোট ভোটার ২১ হাজার ৬৯৫ জন, যার মধ্যে নারী ভোটার প্রায় ১০ হাজার ২৯৯ জন। গৃদকালিন্দিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এ কে এম লোকমান হাকিম জানান, সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই অনেক নারী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এবার নারীদের এই বিশাল অংশগ্রহণ নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, ইসলামের দৃষ্টিতে নারীদের ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়—এই সত্যটি মানুষের মাঝে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ৫৬ বছরের পুরনো ভুল ধারণার অবসান ঘটেছে।







