নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়া সেই নারী এবার সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঙ্খার বাজার উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে তিনি ভোট দেন। একই সময়ে পাশের পুরুষ কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন তার স্বামী ও ছেলে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আনন্দ ভোট দেওয়া শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ওই নারী জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার স্বাধীনভাবে এবং নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, “আমি তারেক রহমানকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।” তাদের পরিবারের সবাই নোয়াখালী-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শাহজাহানের পক্ষে রয়েছেন জানিয়ে তিনি সবার দোয়া কামনা করেন।
স্বামীর প্রতিক্রিয়া ও প্রতীকের প্রতি আস্থা নির্যাতিতার স্বামী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “একসময় যে প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণে আমাদের পুরো পরিবারের ওপর নির্মম নির্যাতন নেমে এসেছিল, এবার সেই প্রতীকই জয়ী হোক—এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।” বিভীষিকাময় সেই স্মৃতি কাটিয়ে আবারও পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
প্রার্থীর বক্তব্য ও সাহসিকতার প্রশংসা নোয়াখালী-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ওই নারী গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে যে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তা ছিল দেশ ও বিদেশের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। তার সাহসিকতাকে তিনি বর্তমান সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিচার ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের সেই বর্বরোচিত ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ দশজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে সেই রায় এখনও কার্যকর হয়নি। সেই ভয়াবহতা কাটিয়ে আজ আবারও ভোটকেন্দ্রে তার সরব উপস্থিতি এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।







