ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৩টি সংসদীয় আসনেই বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে জেলার সবকটি আসনেই ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীরা ধানের শীষের প্রার্থীদের পরাজিত করে এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর): নূরুল ইসলাম বুলবুলের বিশাল জয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ১৭২টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১,৮৯,৬১৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হারুনুর রশীদ পেয়েছেন ১,২৬,৯৯৭ ভোট। ৬২,৬১৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারুনুর রশীদকে পরাজিত করে নূরুল ইসলাম বুলবুল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ): ড. কেরামত আলীর বিজয় শিবগঞ্জ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. কেরামত আলী বিজয়ী হয়েছেন। ১৫৯টি কেন্দ্রে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১,৮৯,৮৭৬। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ১,৬০,৭১৯ ভোট। এই আসনে ২৯,১৫৭ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) ড. মিজানুর রহমানের জয় নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট নিয়ে গঠিত এই আসনে জামায়াত প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১৮৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১,৬৯,৫২৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ১,৫৪,৫৩২ ভোট। প্রায় ১৪,৯৯৩ ভোটের ব্যবধানে এই আসনে জয় পান ড. মিজান।
জেলায় জামায়াতের একক আধিপত্য জেলার তিনটি আসনেই জামায়াতের এই ‘ক্লিন সুইপ’ ফলাফলকে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এসব আসনে জামায়াতের একক বিজয় জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর জামায়াতের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন।







