ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতিপয় আলেম ও ধর্মীয় নেতার ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি বিশেষ মহলের হয়ে এই আলেমরা জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচনী ময়দানে কোণঠাসা করতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করেছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আলেমদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, পথচলা এবং প্রতিটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল জামায়াতে ইসলামীকে ঠেকানো। নির্বাচনের মাঠ থেকে শুরু করে ধর্মীয় সমাবেশ—সবখানেই তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল জামায়াতের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, তারা তাদের সেই লক্ষে অনেকাংশেই সফল হয়েছেন।
সমালোচকরা বলছেন, এই আলেমদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল পুরোপুরি একপাক্ষিক। সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে তারা জামায়াতবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন। তাদের এই কৌশলী ভূমিকার কারণেই অনেক আসনে জামায়াত প্রার্থীদের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে এবং ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, এই আলেমরা কেবল একটি নির্দিষ্ট দলকে ঠেকাতেই ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু দেশের বৃহত্তর ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকে তাদের নজর ছিল না। তাদের এই ভূমিকার ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যদি কোনো অন্যায়-জুলুম বা অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়, তবে তার নৈতিক দায়ভার এই আলেমদের ওপরও বর্তাবে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় নেতাদের সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নিয়ে অন্য একটি ইসলামী ঘরানার দলের বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি দেশের আগামী দিনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
