ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা ‘ফ্যাসিবাদী’ কায়দায় ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং লুটপাট চালাচ্ছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত ১১ দলের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন পরবর্তী এই সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিজয় কিংবা পরাজয়—কোনোটিই প্রতিহিংসার লাইসেন্স হতে পারে না।” তিনি অবিলম্বে এই ধরনের সহিংসতা বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান এবং প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর এই পরিকল্পিত আক্রমণ ও হয়রানি দ্রুত বন্ধ না করা হয়, তবে জামায়াতে ইসলামী হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। তিনি বলেন, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে আমরা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব। প্রয়োজনে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা রাজপথে নামব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর দেশ যখন একটি নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার অপেক্ষায়, তখন এ ধরনের সহিংসতা জাতির জন্য অমঙ্গল বয়ে আনবে। তিনি বিএনপি নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে যারা এই ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে, তাদের দ্রুত লাগাম টেনে ধরুন, অন্যথায় রাজনৈতিক সহাবস্থান বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যার প্রেক্ষিতে এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন জামায়াত আমীর।
