ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপির কঠোর সমালোচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর ধরে যারা শোষিত হওয়ার দাবি করে আসছিল, সেই বিএনপির নেতাকর্মীরাই এখন সারা দেশে ‘ফ্যাসিবাদী’ কায়দায় হামলা শুরু করেছে। তিনি বলেন, “ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই বিএনপির এমন সহিংস আচরণ আগামীর সুশাসনের বাংলাদেশকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।”
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী করার জন্য একটি ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা সূক্ষ্ম পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে বিএনপিকে ২০০-এর বেশি আসন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক আসনে এনসিপি প্রার্থীরা শুরুতে এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, গণমাধ্যম, গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রশাসনের একাংশ মিলে বিএনপিকে বিশাল এই বিজয় এনে দিয়েছে। দলটির আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসে বিএনপি যেকোনো সময় সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে এবং আওয়ামী লীগের মতো দলকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোটের রায়’ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, ক্ষমতার দাপটে যেন ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনা হারিয়ে না যায়। নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে এনসিপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন।







