প্রায় দুই যুগ পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রায় সবাই বিজয়ী হওয়ায় দলটিতে এখন সরকার গঠন ও নীতিনির্ধারণী পদগুলো নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
দলের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছে যে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে তাঁর দেশে ফেরা এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে কাজ চলছে। ২০০১ সালের পর এটিই বিএনপির সবচেয়ে বড় বিজয়, যা দলটির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী পদের পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম। দলীয় সূত্র মতে, এই পদের জন্য চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আব্দুল মঈন খান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রাষ্ট্রপতি পদে নজরুল ইসলাম খানের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হওয়ার কারণ তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও জিয়া পরিবারের প্রতি অটুট বিশ্বস্ততা। তিনি এবার নির্বাচনে অংশ নেননি এবং অতীতে কোনো মন্ত্রীত্বও গ্রহণ করেননি। কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং ক্লিন ইমেজের কারণে তাঁকে এই উচ্চাসনে বসিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সম্মাননা দিতে চায় দল।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় ভূমিকার কারণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও রাষ্ট্রপতি পদে দেখার আলোচনা রয়েছে বিএনপিতে। অতীতেও বিভিন্ন সময় তাকে এই পদে ভাবা হয়েছিল। এছাড়াও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ড. আব্দুল মঈন খানের নামও বিবেচনায় রয়েছে। অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ মন্ত্রিসভার খসড়াও প্রায় চূড়ান্ত বলে জানা গেছে।
২০০১ সালে চারদলীয় জোটের অধীনে বিএনপি ১৯৩টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল। এবার এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়ে সেই রেকর্ড অতিক্রম করেছে দলটি। সংরক্ষিত নারী আসনগুলো যুক্ত হলে সংসদে বিএনপির শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো ঘোষণার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।







