পাবনা সদরের ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মাহমুদ খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে কাজ করায় জামায়াত নেতাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পাবনা সদর থানায় এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. জাহিদ হাসান মুসা।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান ও তাঁর সহযোগী আলমের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র বাহিনী ভাঁড়ারা গ্রামে জাহিদ হাসান মুসার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির নারী সদস্যদের গালিগালাজ করার পাশাপাশি আসবাবপত্র, ফ্রিজ, টিভি ও একটি মোটরসাইকেলসহ প্রায় আট লাখ টাকার সম্পদ ভাঙচুর করে।
ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান মুসা দাবি করেন, হামলাকারীরা তাঁর ঘর থেকে মাছ বিক্রির আট লাখ টাকা এবং ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। এমনকি তারা গোয়াল থেকে গরুও লুটে নেওয়ার চেষ্টা করে। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী ইয়াসিন আলীর বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুসা আরও জানান, এলাকায় সুলতান মাহমুদ খান ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই তাঁদের জন্য কাল হয়েছে। বর্তমানে এসব পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁরা অবিলম্বে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভাঁড়ারা ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ধানের শীষ বা কোনো বিশেষ পক্ষের নির্বাচন করেননি এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর জন্য এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







