ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর পাবনা ও ঝিনাইদহে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত দুই নারী ও তাঁদের পরিবারের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে বর্বরোচিত হামলা ও শ্লীলতাহানির হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী দুই নারীই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী।
পাবনা সদরের আতাইকুলা ইউনিয়নের মৌগ্রামে এক রাবি ছাত্রীর বাড়িতে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী নির্বাচনে দাঁড়িয়ে পাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ধানের শীষের জয়ের পর রাতে একদল লোক বিজয় মিছিল নিয়ে এসে তাঁর বাবাকে কুপিয়ে হত্যা এবং বাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি দেয়।
নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা ওই শিক্ষার্থী জানান, বাড়িতে পুরুষ সদস্য বলতে শুধু তাঁর বাবা আছেন। হামলাকারীদের হুমকির মুখে তাঁরা পরদিন সকালেই বাড়ি ছেড়ে সিরাজগঞ্জে নানা বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে লাল মিয়া ও তাঁর দুই ছেলে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় জামায়াত নেতার পরিবারের নারী সদস্যদের ‘উলঙ্গ করে উপভোগ’ করার মতো কুরুচিপূর্ণ ও ভয়াবহ হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপিকর্মী মুক্ত ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী এবং তাঁর মা মহিলা জামায়াতের স্থানীয় নেত্রী।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ২০-২৫ জন লোক তাঁদের বাসার সামনে এসে তাঁদের ‘রোহিঙ্গা’র সাথে তুলনা করে গালিগালাজ করে এবং এক পর্যায়ে নারী সদস্যদের বাইরে বের করে এনে শ্লীলতাহানির হুমকি দেয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তরা প্রথমে ক্ষমা চাইলেও পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির শুরু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব ঘটনার বিষয়ে পাবনা ও ঝিনাইদহের স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, তাঁরা বিষয়টি অবগত নন। তবে অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।







