ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ব্রিটেনের সংসদীয় গণতন্ত্রের আদলে রাজপথে এবং সংসদে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ (Shadow Cabinet) গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে এই জোট।
জোটের শীর্ষ নেতাদের মতে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যারা সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, তাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ড এবং মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ। এই ছায়া মন্ত্রিসভার মূল কাজ হবে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে ‘আতশি কাঁচের’ নিচে রাখা এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে জনস্বার্থ রক্ষা করা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১১ দলীয় জোটের দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতাদের নিয়ে এই ছায়া মন্ত্রিসভা সাজানো হবে। প্রতিটি সরকারি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে জোটের একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ নির্দিষ্ট থাকবেন। সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত জনবিরোধী হলে বা কোনো মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির আভাস পাওয়া গেলে ছায়া মন্ত্রিসভা তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প প্রস্তাব ও সঠিক তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরবে।
জোটের নেতারা বলছেন, নতুন বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা একনায়কতন্ত্র দেখতে চায় না মানুষ। তাই সরকারকে শুরু থেকেই চাপে রাখতে এবং সঠিক পথে পরিচালিত করতে শক্তিশালী বিরোধী শক্তির প্রয়োজন। এই ছায়া মন্ত্রিসভা কেবল সমালোচনা নয়, বরং দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী পরিকল্পনা ও নীতিগত সংস্কারের রূপরেখাও উপস্থাপন করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে এই ধরনের ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণা কার্যকর হলে তা সংসদীয় রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এর ফলে সরকারি দল যেমন সতর্ক থাকবে, তেমনি সাধারণ মানুষও মন্ত্রণালয়ের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট পাবে।







