ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন, নতুন সরকার, বিএনপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির তাঁর পোস্টে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ৫৩টি আসনে বিএনপি খুব সামান্য ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে এবং প্রায় ৩০টি আসনে জালিয়াতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫৩টি আসনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থাকায় সেগুলো বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু আসনে ভোটের স্বচ্ছতা ও সততা রক্ষার স্বার্থে আইনের আওতায় বৈধ সকল পন্থায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। জনগণের আস্থা বজায় রাখতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার সাথে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি।
জুলাই সনদের ম্যান্ডেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। এটি পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট জাতীয় ম্যান্ডেট। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সরকার এই রায়কে সম্মান করবে এবং সংস্কারকে স্লোগান হিসেবে নয়, বরং একটি আমানত হিসেবে বিবেচনা করে সংযম ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করবে।
বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, তারা যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রমাণ করে যে সংবিধানের নিয়মের মধ্যেই দেশ পরিচালিত হবে। কোনো কর্মী আইন লঙ্ঘন করলে তাঁকে পক্ষপাতহীনভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহিংসতা ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেন।
সবশেষে তিনি দেশবাসীকে শান্ত ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি পরিপক্বতা ও জাতীয় দায়িত্ববোধের সময়। ক্ষমতার প্রয়োগ যেন সততা, সংযম ও জবাবদিহিতার সঙ্গে হয়, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার কাজ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন ডা. শফিকুর রহমান।







