ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে জামায়াতে ইসলামীর ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট আলেম মুফতি আলী হাসান উসামা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই উদ্যোগকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং ইতিবাচক সংযোজন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মুফতি উসামা বলেন, এই ‘প্রতীক্ষমাণ সরকার’ বা ছায়া মন্ত্রিসভার মূল কাজ হবে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের কর্মকাণ্ডের ওপর কড়া নজর রাখা। তারা কেবল অন্ধ বিরোধিতা না করে বরং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারের ওপর একটি তদারকিমূলক ব্যবস্থা বজায় থাকবে, যা দেশ ও জনগণের উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখবে।
তিনি উল্লেখ করেন, এই পদ্ধতিতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য মনোনীত ছায়া মন্ত্রীরা একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল বা ‘থিংক ট্যাংক’ নিয়ে কাজ করবেন। সরকারের গৃহীত কোনো নীতির ত্রুটি থাকলে তারা বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে সেটির বিকল্প প্রস্তাব পেশ করবেন। এতে ক্ষমতাসীনরা একটি সুস্থ চাপের মধ্যে থাকবে এবং জনগণের সামনে বিকল্প সমাধান ও তা কার্যকরের স্পষ্ট রোডম্যাপ উন্মোচিত হবে।
মুফতি উসামার মতে, এই উদ্যোগের একটি বড় দিক হলো ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি। এর মাধ্যমে জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা মন্ত্রণালয় পরিচালনার বিষয়ে আগেভাগেই দক্ষ হয়ে উঠবেন। ফলে ভবিষ্যতে কোনো এক সময় দায়িত্ব পেলে তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবেন। এটি দলের দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি কার্যকর মাধ্যম।
পরিশেষে তিনি একে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, ছায়া মন্ত্রিসভার কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের সামনে সহজেই প্রমাণিত হবে যে, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কতটা যোগ্য, সুশৃঙ্খল এবং পরিকল্পিত একটি দল। এটি মূলত জনআস্থা অর্জনে দলটিকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।







