ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় কারাগারে কাটানোর পর, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে মুক্ত হয়ে রাজকীয়ভাবে সংসদে ফিরছেন দেশের তিন শীর্ষ নেতা। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৭ সালে গ্রেপ্তারের পর টানা ১৮ বছর কারাগারে ছিলেন। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলা থেকে খালাস পেয়ে ১৬ই জানুয়ারি তিনি মুক্তি পান। নেত্রকোনা থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে তিনি জয়ী হয়েছেন।
একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবন্দি থাকার পর গত ২৪শে ডিসেম্বর মুক্তি পান। টাঙ্গাইলের গোপালপুর-ভূঞাপুর আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি চমক দেখিয়েছেন। প্রায় ২ লাখ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি আবারও সংসদে নিজের আসন নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামও কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১২ সালে গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ সময় কারান্তরালে থাকা এই নেতা গত বছরের ২৮শে মে মুক্তি পান। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অবস্থান থেকে জনরায়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এই ঘটনা বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। দীর্ঘ কারাজীবন শেষে এই নেতাদের এমন বিপুল বিজয় তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাবেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।







