পবিত্র রমজান মাসজুড়ে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
আদালতের এই নির্দেশনার ফলে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৮ মার্চের পরিবর্তে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই মাধ্যমিক পর্যায়ের সব বিদ্যালয়ে রমজানের ছুটি শুরু হবে। তবে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, রমজানের মধ্যে যদি কোনো নির্ধারিত পরীক্ষা থেকে থাকে, তবে তা সময়মতো অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিক মুসলমান এবং স্বাধীনতার পর থেকেই রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার একটি দীর্ঘদিনের প্রথা ও রীতি রয়েছে। প্রথা অনুযায়ী এটি আইনের অংশ হিসেবে গণ্য, তাই স্কুল খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।
আবেদনে আরও বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে তীব্র গরমে বা দীর্ঘ সময় স্কুলে অবস্থান করা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। এটি তাদের ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে। এ ছাড়া রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে শহরগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
রিটকারী আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল শুনানিতে যুক্তি দেন যে, একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাদ্রাসাগুলো ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো রমজান মাস ছুটির আওতায় থাকলেও সাধারণ স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে ৮ মার্চ থেকে ছুটির সিদ্ধান্ত ছিল। এটি একটি সুস্পষ্ট বৈষম্য। শুনানি শেষে আদালত এই বৈষম্য দূর করতে এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পুরো রমজান মাস স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এই আদেশের সরাসরি আওতায় থাকছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ পরবর্তীতে জানা যাবে।







