প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। ৫ আগস্ট দেশের অবস্থা ছিল যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো; সামান্য বিচ্যুতিতেই দেশ বিশৃঙ্খলার দিকে চলে যেতে পারত। তবে সরকার পরিস্থিতি সামাল দিয়ে স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের দায়িত্ব পালনে প্রায় ৯০ শতাংশ সফল হয়েছে।
রোববার উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন অর্জন ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন তিনি।
প্রেস সচিব জানান, ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের প্রধান তিন অগ্রাধিকার ছিল—সংস্কার, স্থিতিশীলতা ও সুশাসন। বিদ্যুৎ খাতে বিতর্কিত বিশেষ আইন বাতিলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনা দরপত্রে বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনের সুযোগ থাকায় স্বজনতোষী পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটেছিল এবং বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই আইন বাতিল করা হয় এবং জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
অর্থনৈতিক সূচকের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আইএমএফের হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একসময় ১৫–১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেলেও বর্তমানে তা ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; মোট রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার। ডলারের বিপরীতে টাকার দর ১২৭ টাকা থেকে নেমে বর্তমানে ১২৩–১২৪ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।
রাজস্ব আহরণেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির কথা জানান তিনি। খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে বলেন, দেশে বর্তমানে সর্বোচ্চ খাদ্য মজুদ রয়েছে এবং বিদ্যমান রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ সম্ভব।
বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতিতে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে শফিকুল আলম জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চুক্তি এবং জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের জন্য বড় বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলছে বলে জানান।
পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে অষ্টম বৃহৎ দেশ; সেই মর্যাদা অনুযায়ী স্বাধীন ও সম্মানজনক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, গত ১৮ মাসে গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেনি এবং গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছে।
সবশেষে তিনি বলেন, সংস্কার ও স্থিতিশীলতার মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই ছিল সরকারের লক্ষ্য, এবং সে লক্ষ্য অর্জনে তারা প্রায় ৯০ শতাংশ সফল হয়েছেন বলে মনে করেন।







